বাংলাদেশে প্রধানত তিনটি মাটির ধরন পাওয়া যায়: লাল মাটি, সাদা মাটি ও দোয়াল মাটি। লাল মাটি প্রধানত সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে, সাদা মাটি ডেকা, কুমিল্লা ও নরসিংদি জেলায় এবং দোয়াল মাটি বৃহত্তর অংশে, বিশেষ করে গাজীপুর, পঞ্চগড় ও রাজশাহী জেলায় প্রচলিত। প্রতিটি মাটির পিএইচ, জৈব পদার্থের পরিমাণ ও পুষ্টি উপাদান ভিন্ন, যা ফসলের ফলনকে সরাসরি প্রভাবিত করে।
উর্বরতা বাড়াতে জৈব সার, কম্পোস্ট ও সেচের সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। মাটির পিএইচ সমন্বয় করতে চুন বা গমের শৈবাল ব্যবহার করা যায়, আর নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাসিয়াম সরবরাহে সঠিক রাসায়নিক সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তবে অতিরিক্ত সারের ব্যবহার মাটির গঠনকে ক্ষতি করে, তাই সুনির্দিষ্ট সারের পরিমাণ নির্ধারণে মাটির পরীক্ষা (সোয়াইল টেস্ট) অপরিহার্য।
টেকসই কৃষি চর্চার জন্য রোটেশনাল ফার্মিং, কভার ক্রপ ও সীড বেডিং পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত। এই পদ্ধতিগুলো মাটির কাঠামো উন্নত করে, ক্ষয় রোধ করে এবং জৈব পদার্থের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পায়।