বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা রাখে বিভিন্ন খাত। এদের মধ্যে কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, পরিষেবা খাত ও রপ্তানি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের (GDP) প্রায় ১৩-১৪% অংশ কৃষি খাত থেকে আসে। তবে, কৃষি খাতের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অবদান অনেক বেশি, প্রায় ৩০% কর্মসংস্থান কৃষি খাতেই নিহিত। প্রধান কৃষি পণ্য হলো ধান, গম, আলু, মাছ, তেলবীজ এবং ফলমূল।
শিল্প খাতও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষত, রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের বিকাশের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের মধ্যে রপ্তানি খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পোশাক, জুতা, চামড়া, মাছ ও জাহাজ নির্মাণ। ২০২৩ সালে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় প্রায় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এছাড়াও, বস্ত্র ও গার্মেন্টস খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির রীখা হিসেবে পরিচিত।
পরিষেবা খাতও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে। বিশেষত, তথ্য প্রযুক্তি (IT) খাত, ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা, পর্যটন ও হোটেল খাত ইত্যাদি দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের IT খাতের বিকাশের ফলে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বহু বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশকে তাদের সফটওয়্যার বিকাশ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এছাড়াও, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বিদেশ থেকে দেশে আসা অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বাণিজ্য খাতও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার হলো ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পোশাক, যা বিশ্ববাজারে উচ্চ মানের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, দেশের প্রধান আমদানি পণ্য হলো পেট্রোলিয়াম, মেশিনারি, ইলেকট্রনিক্স ও রাসায়নিক পণ্য। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।