যে সমাসে দুই পদের অর্থ প্রাধান্য না পেয়ে তৃতীয় অর্থ প্রাধান্য পায়, তাকে বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। যেমন : দশ আনন যার = দশানন। এখানে ‘দশ’ ও ‘আনন’ এই দুটি পদের সমাস হয়েছে, কিন্তু সমাস-নিষ্পান্ন পদটি এই পদ দুটির কোনটির অর্থ প্রকাশ করছে না। সমাসবদ্ধ পদে দশ আনন (মুখ) বিশিষ্ট ব্যক্তিকে (রাবন) বোঝানো হয়েছে। ‘বহুব্রীহি’ পদটিই বহুব্রীহি সমাস নিষ্পন্ন, বহু (অনেক) ব্রীহি (ধান) আছে যার; সে বহুব্রীহি (ধনী লোক)। এখানে ‘বহু’ এবং ‘ব্রীহি’ সমস্যমান পদ দু’টির যোগে সমস্ত পদটির দ্বারা একটি তৃতীয় পদের (এখানে ধনী ব্যক্তির) প্রাধান্য পেয়েছে। এই রকম সমাসকে বহুব্রীহি সমাস বলে।বহুব্রীহি সমাসের শ্রেণী বিভাগ :
- 1. সামানাধিকরণ বহুব্রীহি : পূর্বপদ বিশেষণ এবং পরপদ বিশেষ্য হলে তাকে সমানাধিকরণ বহুব্রীহি বলা হয়। যেমন: নীলকণ্ঠ = নীল কণ্ঠ যার; পোড়াকপাল = পোড়া কপাল যার, পক্ব কেশ যার = পক্বকেশ ইত্যাদি।
- 2. ব্যধিকরণ বহুব্রীহি : উভয়পদ (পূর্বপদ,পরপদ) বিশেষ্য হলে ব্যধিকরণ বহুব্রীহি হয়। যেমন : বীণা পাণিতে যার = বীণাপাণি, গোঁফে খেঁজুর যার = গোঁফ-খেঁজুরে ইত্যাদি।
- 3. ব্যতিহার বহুব্রীহি : পরস্পর একজাতীয় ক্রিয়াকরণ বোঝালে যে বহুব্রীহি সমাস হয় তাকে ব্যতিহার বহুব্রীহি বলে। এই সমাসে পূর্বপদ আ-কারান্ত ও পরপদ ই-কারান্ত হয়। যেমন: লাঠিতে লাঠিতে যে যুদ্ধ= লাঠালাঠি; পরস্পর গালি বর্ষণ করে যুদ্ধ = গালাগালি; হেসে হেসে যে আলাপ = হাসাহাসি।
- 4. মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাসে ব্যাসবাক্যের ব্যাখ্যানমূলক মধ্যপদের লোপ হয় তাকে মধ্যপদলোপী বহুব্রীহি বা ব্যাখ্যাত্নক বহুব্রীহি বলে। এই সমাসে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পূর্বে উপমান পদ থেকে তুলনা বোঝায় বলে একে উপমাত্মক বহুব্রীহি ও বলে। যেমন: মৃগের নয়নের ন্যায় চঞ্চল নয়ন যার = মৃগনয়না; চন্দ্রের মতো স্নিগ্ধোজ্জ্বল মুখ যে নারীর = চন্দ্রমুখী; বিম্বের মতো রঞ্জিত অধর যার = বিম্বাধর ইত্যাদি।
- 5. নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস : নঞর্থক অব্যয় পদের সাথে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে নঞর্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: নাই উপায় যার = নিরুপায়; নাই অন্ন যার= নিরন্ন; নাই তার যার = বেতার; নাই হুঁশ যার= বেহুঁশ ইত্যাদি।
- 6. অলুক বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় না, তাকে অলুক বহুব্রীহি সমাস বলা হয়। যেমন; গায়েহলুদ = গায়ে হলুদ দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে; হাতেখড়ি = হাতেখড়ি দেওয়া হয় যে অনুষ্ঠানে ।
- 7. সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাসে পূর্বপদ সংখ্যাবাচক হয়, তাকে সংখ্যাবাচক বহুব্রীহি বলা হয়। যেমন : দশ আনন যার = দশানন, দশ ভুজ (হাত) যার = দশ ভুজা ।
- 8. সহার্থক বহুব্রীহি সমাস : সহার্থক পদের সঙ্গে বিশেষ্য পদের বহুব্রীহি সমাস হলে তাকে সহার্থক বহুব্রীহি সমাস বলে। যেমন: বান্ধবের সহিত বর্তমান = সবান্ধব, স্ত্রীর সহিত বর্তমান = সস্ত্রীক ইত্যাদি।
- 9. প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাসের সমস্তপদে আ, এ, ও ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হয় তাকে বলা হয় প্রত্যয়ান্ত বহুব্রীহি। যেমন: এক দিকে চোখ (দৃষ্টি) যার =একচোখা (চোখ+আ), ঘরের দিকে মুখ যার =ঘরমুখো (মুখ +ও), ঊন পাঁজুর যার = ঊনপাঁজুরে (পাঁজুর+এ) ইত্যাদি।
- 10. নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি সমাস : যে বহুব্রীহি সমাস কোন নিয়মের অধীনে নয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ বহুব্রীহি বলা হয়। যেমন : দুদিকে অপ যার=দ্বীপ, অন্তর্গত অপ যার = অন্তরীপ ইত্যাদি।