বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ: বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ হিসেবে ১৯শ শতাব্দীকে বিবেচনা করা হয়। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যে রেনেসাঁসর প্রভাব দেখা যায়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ এই যুগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এই সময়ে বাংলা সাহিত্যে উদ্ভাবনীতা, মানবতাবাদ ও সামাজিক সংস্কারর ধারা প্রবাহিত হয়।
প্রধান সাহিত্যিকদের অবদান: এই সময়ের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। তার বিষবৃক্ষ, মেঘনাদবধ কাব্য ও অন্যা কাব্যগ্রন্থ বাংলা সাহিত্যে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়র দেবী চৌধুরাণী, কাপালকুণ্ডলা ও আনন্দমঠ জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরর গীতাঞ্জলি, গোরা ও ঘরে বাইরে সাহিত্যে নতুন রূপ দেয়।
স্বাধীনতা আন্দোলনে সাহিত্যের ভূমিকা: ২০শ শতাব্দীর প্রথমার্ধে বাংলা সাহিত্যে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব স্পষ্ট। কাজী নজরুল ইসলামর বঙ্গবন্ধু, বন্দিমাতর ও বাংলা কবিতাগুলি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হয়ে ওঠে। এছাড়াও ফররুখ আহমদ, সৈয়দ শামসুল হক ও আহসান হাবীবর সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড এই সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
বাংলা সাহিত্যের এই স্বর্ণযুগে প্রগতিশীল সাহিত্য আন্দোলনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই আন্দোলনের সাহিত্যিকরা সামাজিক ন্যায়বিচার, শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার ও শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারকে কেন্দ্র করে লেখালিখি করে। জীবনানন্দ দাশর অগ্নিগর্ভা, কবিতা ও সূর্যরেখা এই আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবদান।