শব্দ হলো এক প্রকার যান্ত্রিক তরঙ্গ যা কণার কম্পনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে শক্তি সঞ্চালন করে। এর বিস্তারের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক মাধ্যম (কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়) প্রয়োজন। শব্দের গতি বিভিন্ন মাধ্যমের উপর নির্ভরশীল; তাপমাত্রা, ঘনত্ব এবং আর্দ্রতা শব্দের গতিকে প্রভাবিত করে।
সাধারণত, কঠিন মাধ্যমে শব্দের গতি সবচেয়ে বেশি, এরপর তরল এবং গ্যাসীয় মাধ্যমে সবচেয়ে কম। যেমন, বায়ুতে শব্দের গতি প্রায় ৩৪৩ মিটার/সেকেন্ড (২০°সেলসিয়াস তাপমাত্রায়), পানিতে প্রায় ১৪৮০ মিটার/সেকেন্ড এবং লোহায় প্রায় ৫০০০ মিটার/সেকেন্ড। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুতে শব্দের গতি বৃদ্ধি পায়।
প্রতিধ্বনি (Echo) হলো শব্দের প্রতিফলিত রূপ। যখন শব্দ কোনো বাধা পেয়ে ফিরে আসে এবং শ্রোতার কানে মূল শব্দ শোনার পর ০.১ সেকেন্ডের মধ্যে পৌঁছায় না, তখন আমরা সেই প্রতিফলিত শব্দকে প্রতিধ্বনি হিসেবে শুনতে পাই। মানব কানের জন্য প্রতিধ্বনি শুনতে পাওয়ার ন্যূনতম সময় ব্যবধান ০.১ সেকেন্ড।
প্রতিধ্বনি শোনার জন্য উৎস এবং প্রতিফলক পৃষ্ঠের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ন্যূনতম দূরত্ব প্রয়োজন। বায়ুতে এই দূরত্ব প্রায় ১৭ মিটার। প্রতিধ্বনির ব্যবহারিক প্রয়োগ রয়েছে সোনোগ্রাফি, সোনার (Sound Navigation and Ranging) এবং বাদুড়ের অন্ধকারে চলাচলের ক্ষেত্রে।