মুগল সাম্রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছিল কেন্দ্রীভূত কিন্তু বিকেন্দ্রীকৃত গঠনের সমন্বয়। সাম্রাজ্যের মূল প্রশাসনিক একক ছিল ‘সাবাহ’ বা প্রদেশ, যা শাসন করার জন্য ‘সারকার’ বা জেলা ব্যবস্থায় বিভক্ত ছিল। প্রতিটি সারকারে ‘পারগানা’ নামে ছোটখাটো প্রশাসনিক অঞ্চল থাকত, যা ‘পারা’ বা ‘পান’ দ্বারা শাসিত হতো।
সাবাহের শাসক ‘সাবাহদার’ বা ‘মালিক’ ছিলেন, যিনি সাম্রাজ্যের নীতি বাস্তবায়ন ও কর সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন। তার অধীনস্থ ‘সারকার’ শাসক ‘সারকারদার’ করতেন, যিনি স্থানীয় কর ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতেন। এই স্তরভিত্তিক কাঠামো সাম্রাজ্যের বৃহৎ ভূখণ্ডে শৃঙ্খলা ও কর সংগ্রহে সহায়তা করত।
বেঙ্গল অঞ্চলে এই প্রশাসনিক কাঠামো রাজস্ব সংগ্রহ, আইন প্রয়োগ ও সামরিক প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ‘পারগানা’ ও ‘সারকার’ স্তরের কর্মকর্তারা স্থানীয় কৃষক ও বণিকদের সঙ্গে যোগাযোগে থাকতেন, যা সাম্রাজ্যের নীতি স্থানীয় স্তরে কার্যকর করত। এই ব্যবস্থা সাম্রাজ্যের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক শৃঙ্খলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছিল।